ধর্ম, মৌলবাদ ও নারী: নারীমুক্তির এ আওয়াজ বাঁধ ভাঙার

Nariii

ছবিঃ সংগৃহীত

ইসলাম ধর্মের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, ধর্মের কানুন, বিধিনিষেধ নারীর অধিকার, নারীর স্বাধীনতা এবং জীবনবোধের জায়গায় এক কৃত্রিম আবহ তৈরি করে। যে ধর্মীয় শাসনের সাথে একজন নারীর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের ক্ষেত্র আবিষ্কার করেছিলাম নিজের শৈশব থেকেই।

বাংলাদেশের সমাজ থেকে রাষ্ট্র ও পরিবার—প্রতিটি স্তর ও ক্ষেত্রেই ধর্মান্ধতা এক অদৃশ্য শেকলে বন্দী করে নারীদের। সেই যে বললাম, এক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের আবহ; এখন এর পরিধি সময়ের সাথে আরও বিস্তৃত হয়েছে। এর সাথে এখন যুক্ত হয়েছে, নিজের জ্ঞানে বুঝতে শিখেছি ধর্মের নামে মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থা কী করে একজন নারীর স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে, একজন নারী জন্মাবার আগেই তার সাথে জীবন ও জীবনবোধের এক অর্থহীন যুদ্ধের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখে।

ধর্মের নামে এ উগ্রপন্থা ও ধর্মের ব্যবসা কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। আজকাল যখন একজন নারী হিসেবে অধিকারের প্রশ্নে কথা বলি, ধর্মের মাওলানাদের নারী বিদ্বেষী ফতোয়া নিয়ে নিজের কণ্ঠে প্রতিবাদ করতে সচেষ্ট হই, মৌলবাদীদের সৃষ্ট ত্রাস, রাগ, ক্ষোভে যখন অধিকারবন্দী নারীদের হয়ে নিজেকে একই কাতারে দাঁড় করাই; এক ধরনের অজানা ভয়, শঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতা একজন নারী হিসেবে আমাকে গ্রাস করে।

আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে আরবে ছিল আইয়ামে জাহেলিয়া (অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগ), যেখানে নারীদের জীবন্ত কবর দেওয়া হতো। খ্রিস্টানেরা দ্য ডার্ক এজেস আখ্যা দিয়ে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারত নারীদের। এ বাংলায় ছিল সতীদাহ প্রথা। যেখানে মৃত স্বামীর সঙ্গে জীবন্ত স্ত্রীকে আগুনের জ্বলন্ত চিতায় পুড়িয়ে দাহ করা হতো।

সাম্য, সমঅধিকার ও নারীর স্বাধীনতার প্রশ্নে ধর্ম ইসলামের মৌলবাদীদের স্বরচিত জাগতিক শরিয়াহ আইন, খেলাফতের স্বপ্ন পবিত্র ধর্ম ইসলামকে কলুষিত করে। আজকের বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির নামে যে মৌলবাদী, উগ্রবাদী ও চরমপন্থী সন্তানেরা জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, চরমোনাই, হুজি সহ ইসলামী দলগুলোর মাওলানাদের পাগড়ির ভাঁজের পরতে লুকিয়ে আছে, ঘাপটি মেরে আছে তথাকথিত ধর্মের মাওলানাদের চোখের জেনায়; যেখানে নারীরা শুধুমাত্র গণিমতের মাল হিসেবে স্বীকৃতি পায়; সে সব অপবিত্র চোখে চোখ রেখে নারীদের কথা বলতে হবে। এরা ধর্ষণকারী, এরা যে ধর্ম প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে, তা সঠিক ইসলাম নয়।

ইসলাম ধর্ম কখনোই নারীদের অধিকারকে কুক্ষিগত করে না। সমঅধিকার এখানে স্বীকৃত। কিন্তু যে মৌলবাদীরা একে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে, এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। বাংলাদেশকে মৌলবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।

Copyright © nasrinsultana.com All rights reserved.