ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যৌন নির্যাতন: ধর্মভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে
ছবিঃ সংগৃহীত
শ্রীমঙ্গলের একটি মাদ্রাসায় নয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগে রাকিবুল হাসান মিরাজ নামের এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সূত্রঃ শিক্ষা সংবাদ (রবিবার, ২৩ আগস্ট)
বাংলাদেশের কওমি, আবাসিক মাদ্রাসা ও হেফজখানাগুলোতে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার বিপরীতে শিক্ষার্থীদের প্রতি যৌন নির্যাতনের এমন চিত্র সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ আশঙ্কাজনক ও উদ্বেগের। এবং মাদ্রাসায় শারীরিকভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া এসব শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই শিশু; বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও প্রকাশিত সংবাদের তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায়, ৯-১২ বছর। এর অধিকাংশই যাদের নাবালক হিসেবে গণ্য করা হয়। শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের এমন চিত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তা, অধিকার ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে সংশয়ের জন্ম দেয়।
মাদ্রাসাগুলো ধর্মভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার বিপরীতে অপরাধ, যৌন নির্যাতন, বলাৎকার এবং একই সঙ্গে ধর্মীয় মৌলবাদের একটি প্রজননভূমিতে পরিণত হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, এসব মাদ্রাসা, মসজিদ ও ধর্মীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষাব্যবস্থার ইতি টানার পর কোনো এক অজানা কারণে সেসব শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই অপরাধ জগতের প্রবণতা বেশ প্রবলভাবে উৎসারিত হতে দেখা যায়।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিভিন্ন আবাসিক ও কওমি মাদ্রাসাগুলোতে থাকা নাবালক শিশুদের যারা ধর্ষণ করছে/ধর্ষণকাণ্ডের সাথে যাদের সংশ্লিষ্টতা উঠে আসছে, এরাও নিজেদের মাদ্রাসাজীবনে কোনো না কোনোভাবে বলাৎকার ও ধর্ষণের শিকার। শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে এ ধরনের মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। যেখানে মাদ্রাসাগুলো শিশু ধর্ষক, বলাৎকারকারী, মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থার বিস্তৃতি ছাড়া দৃশ্যমান কোনো উপযোগিতা তৈরি করতে ব্যর্থতা দেখাচ্ছে, সেখানে এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে অপরাধক্ষেত্রগুলো বন্ধে সরকারকে সাহসী ও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। একটি দেশের সমগ্র ব্যবস্থাকে শুধুমাত্র ধর্ম ইসলামের ওপর আবেগের ভিত্তিতে বিপথগামী হতে দেওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। ইসলাম ধর্মও এসব অপরাধের বৈধতা কখনোই অনুমোদন করে না।
৯৩% মুসলিম অধ্যুষিত এ ভূখণ্ডে গণমাধ্যমের শিরোনাম থেকে শুরু করে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা ইসলাম ধর্ম/ধর্মসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের যেকোনো অপরাধকর্মকে আড়াল করার চেষ্টা করে। যেখানে ভয়, লজ্জা ও ধর্মীয় প্রভাবের কারণে এমন সব বিষয় প্রকাশে অপারগতা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু এমন সব অপরাধ বাংলাদেশের নারী ও শিশু সুরক্ষা আইন ২০০০-এর লঙ্ঘন ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ইসলাম ধর্ম কখনো শিশু ধর্ষণ ও বলাৎকারের মতো অপরাধকর্মের স্বীকৃতি দেয় না। একজন অপরাধীর শাস্তি, একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা শুধুমাত্র ধর্মের বিচারে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। যেকোনো বিষয়ে অনিয়ম, আশঙ্কা, প্রমাণ ও অপরাধের বিস্তর চিত্র তথ্যের ভিত্তিতে প্রমাণিত হলে তা দেশের প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। ধর্ম সেখানে কোনো বাধা হতে পারে না।
বর্তমানে বাংলাদেশের মাদ্রাসা, মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অপরাধের যে চিত্র স্পষ্ট, সেখানে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না গেলে এটি পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে ধর্ম ইসলামকে বিপথগামী করা সহ নিরাপত্তাহীন করে তুলবে এ দেশের ভূখণ্ড। একই সঙ্গে সাধারণ মুসলমানের ধর্মবিশ্বাসের জায়গায় প্রতিস্থাপিত হবে ইসলামী মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ; যা ইসলাম কখনোই অনুমোদন করে না। সরকারের উচিত এসকল প্রতিষ্ঠান বন্ধে জনসচেতনতার পাশাপাশি প্রশাসনিক ভাবেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এবং ধর্ম ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থায় সকলকে নিরুৎসাহিত করা।
