ইরান, আফগানিস্তান বা সৌদি আরবের শাসনব্যবস্থা আদৌ কি বাংলাদেশের উদার, শান্তিকামী মুসলমানরা চান?
বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের গোড়াপত্তন বর্ণবাদ, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির পরম্পরায়। ধর্মীয় বিশ্বাস একান্তই আত্মিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটি চিন্তিত প্রবণতা দৃশ্যমান—ধর্মকে রাজনীতির মধ্যে প্রতিষ্ঠাপনের মাধ্যমে সমাজে বিভাজন, ভয় ও মৌলবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার এক সুপরিকল্পিত প্রয়াস। বাংলাদেশের উদার, শান্তিকামী মুসলমানরা ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্র, আফগানিস্তানের কট্টরপন্থী তালেবান কিংবা সৌদির রাজতন্ত্রের মতো শাসনব্যবস্থা চায় না। এমন শাসনব্যবস্থা উদার, শান্তিকামী মুসলমানদের চিন্তায় প্রকৃতপক্ষে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নয়।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সকলেই মানবাধিকারের সাথে নিজেদের পূর্ণ অধিকার নিয়ে স্বাধীনভাবে বাঁচতে চায়—যেখানে ধর্মীয় ব্যাখ্যার ভিন্নতা বা প্রশ্ন করাকে প্রায়শই মৌলবাদের চাপে ‘অপরাধ’ হিসেবে রাষ্ট্র চিহ্নিত করবে না। ভিন্নমত, যুক্তির প্রশ্ন বা স্বাধীন চিন্তাধারার জন্য মানুষকে নিগৃহের শিকার হতে হবে না। ইতিহাসও বলে—এ দেশের মানুষ বারবার মৌলবাদ, একনায়কতন্ত্র এবং চরমপন্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল একটি ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, মানবিক রাষ্ট্র গড়ার। একটি যুক্তিনির্ভর, মানবিক এবং সহনশীল সমাজের বিপরীতে শরিয়াহ আইনের প্রতিষ্ঠাপনের প্রচেষ্টা উদার, শান্তিকামী মুসলমানরা প্রত্যাশা করে না।
[টিকা: “ইরান, আফগানিস্তান বা সৌদি আরবের শাসনব্যবস্থা আদৌ কি বাংলাদেশের উদার, শান্তিকামী মুসলমানরা চান?” শিরোনামে লিখাটি এথিস্ট নোট ওয়েবসাইটে ০১ আগস্ট ২০২৫; প্রকাশিত হয়। বর্তমানে লিখাটি ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে পুনঃপ্রকাশিত করা হলো।
