অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে ধর্মের আড়ালে উগ্রবাদীদের আগ্রাসন: প্রকৃত ইসলাম কি আড়ালে?
ছবিঃ সংগৃহীত
বাংলাদেশে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় থেকেই ধর্ম ইসলামকে ব্যবহার করে মৌলবাদী, উগ্রবাদী ও চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর আগ্রাসন এক ধরনের ধর্মের দেয়াল তৈরি করেছে। সারাদেশে এসব সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর বিভিন্ন কার্যক্রম ইসলাম ধর্মকে বিতর্কিত করছে। সাধারণ মুসলমান যে ধর্মচর্চা যুগের পর যুগ ধরে করে আসছে, এর একটি নিজস্ব ধারা রয়েছে।
কিন্তু জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, হুজি (হরকাতুল জিহাদ), খেলাফত মজলিশ এবং গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে জাতীয় নির্বাচনের আগে ইসলামী ঐক্যজোটের ব্যানারে যেসব ইসলামিক মতাদর্শের দলগুলো একত্রিত হয়েছে, এরাই ধর্ম ইসলামের নামে প্রতিক্রিয়াশীল জিহাদি গোষ্ঠী। এরাই ধর্ম ইসলামের শান্তির বিপরীতে সমগ্র দেশকে তালেবানি রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিণত করতে চায়।
জামায়াতে ইসলামীর মতো বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো দেশকে আফগানিস্তানের আদলে তৈরি করতে চায়। দেশের মানচিত্র ও নারীদের স্বাধীনতা, লেখক, বুদ্ধিজীবী এবং সকল মুক্ত মত ও চিন্তার স্বাধীনতার ওপর ধর্মের আবরণ পড়িয়ে ইসলাম ধর্মকে একটি আগ্রাসনের পর্যায়ে নিয়ে যেতে চায়। এরাই ধর্ম ইসলামের নামে জিহাদি ও জঙ্গি গোষ্ঠী, যারা অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় থেকেই ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করছে সাধারণ মুসলমানের অনুভূতিকে ব্যবহার করে।
বিগত দু-বছরের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই সারাদেশে একযোগে কলেমাখচিত সাদাকালো পতাকায় ইসলামি জিহাদিদের মিছিল, দেশে শরিয়াহ আইন, খেলাফত প্রতিষ্ঠার দাবি—সবকিছুই একই সূত্রে গাঁথা। এদের মাধ্যমে ধর্মের ফোবিয়া গ্রাস করেছে সমগ্র বাংলাদেশকে।
এরাই ধর্ম ইসলামের নামে ভিন্ন মত, ধর্ম, গোষ্ঠী, এমনকি ভিন্ন যৌন পরিচয়ে থাকা রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থায় সংখ্যালঘু পরিচয়ে বেঁচে থাকা মানুষের ওপর চড়াও হচ্ছে। যেখানে একজন মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকাটাই কঠিন করে তুলেছে ধর্মের এ গোষ্ঠী। কিন্তু এটি কি প্রকৃত ইসলাম? না, এটি কখনোই প্রকৃত ইসলাম হতে পারে না।
দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই।
সূরা আল-বাকারা ২:২৫৬
যারা ধর্মের নামে বিভিন্ন সংখ্যালঘু মানুষের প্রতি অবিচার, হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের চিত্র সমগ্র বাংলাদেশে সৃষ্টি করেছে, এরা মূলত ধর্ম ইসলামকেই অবমাননা করছে। জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, বাক্স্বাধীনতা, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সমাজতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করে রক্তের হোলিখেলায় মত্ত এই জিহাদিরা। অবাক বিস্ময়ে দেখছি, সমগ্র বাংলাদেশ কিভাবে ধর্ম ইসলামকে ব্যবহার করে জিহাদিস্থানে পরিণত হচ্ছে।
শান্তির ধর্ম ইসলামকে ব্যবহার করে শুধুমাত্র মুসলিম পরিচয়ে জামায়াত-হেফাজত ও ইসলামী ঐক্যজোটের ব্যানারে সারাদেশে জিহাদি-জঙ্গি পতাকা উত্তোলন করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সাধারণ মুসলমানদের সচেতনতা জরুরি। কিন্তু উদ্বেগের বিষয়, জামায়াতে ইসলামীর মতো এই জিহাদি জঙ্গিরা আজকে পরিবর্তিত বাংলাদেশে জাতীয় সংসদেও বিরোধী দলের ভূমিকায় দেশ পরিচালনায়। যেখানে বিএনপি সরকারও এমন কার্যক্রমের নীরব সম্মতি দিয়ে যাচ্ছে।
এ দেশের ভবিষ্যৎ কি তবে জামায়াতি তালেবানদের হাতে চলে যাচ্ছে?
